চল চল আর দেরি করিস না বাবা। মুখের সামনে যেটুকু খাবার আছে নিয়ে শিগগির বেরিয়ে পড়। দেখছিস না লোকগুলো সব যন্ত্রপাতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে!!
ছোট্ট ছেলেটা মার মুখের দিকে করুণ চোখে তাকায়।
কোথায় যাব মা! আমাদের এই ঘরটা যে এত যত্ন করে তুমি সাজালে? এটা ছেড়ে চলে যাব আমরা?
ঘর? পাগল ছেলে। জংলীদের আবার ঘর হয় নাকি! কোন ঠিকানা হয় নাকি? ওই যে লোকগুলোকে দেখছিস! ওরা হল পরিষ্কারওয়ালা। আমাদের মত জংলীদের সাজানো ঘরদোর, গোছানো পরিবার, চোখের স্বপ্ন সবকিছু বিলকুল পরিষ্কার করে দেয় ওরা।
এত কথা বলার সময় নেই এখন। তাড়াতাড়ি কর নইলে বুকের রক্তটুকুও ওরা পরিষ্কার করে দেবে।
কোনওরকমে সব কিছু গুটিয়ে নিয়ে পিচের রাস্তায় উঠে পড়ল গান্ধারী। পিছনে তার পাঁচ পাঁচটি ছেলেপুলে। সবচেয়ে ছোটটা ভালো করে হাঁটতেও শেখেনি। তাকে যে আগলে নিয়ে যাবে সে উপায়ও গান্ধারীর নেই। পিচ রাস্তায় গাড়ি ঘোড়া সামলে আর একটা আস্তানায় পৌঁছোতে হবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।
গান্ধারী আর তার পরিবার রাস্তার মোড়টা ঘুরে গেল চোখের পলকে। খোলা বারান্দায় কফির কাপ হাতে নিয়ে দেখছিল রায়া। গান্ধারীর অস্থায়ী আস্তানাটা কেমন যেন ফেলে যাওয়া কাপড়ের মত আলুথালু হয়ে রয়েছে। সেইদিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে বকুল। রায়া একটু খেয়াল করে দেখার চেষ্টা করল বকুলের চোখে কি জল? গান্ধারীর পরিবারের সাথে বকুলের কতদিনের সখ্যতা। যেদিন ওরা দুটোতে মিলে মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে তৈরী করেছিল এই আস্তানাটা, তখন বকুলের বাচ্চা গুলো খুব ছোট। জলা জায়গায় ছেলেপুলে নিয়ে থাকতে খুব ভয় করত বকুলের। সাপখোপের হাত থেকে বাচ্চাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা, তাদের খাবারের জোগাড় করা সবটাই খুব কঠিন ছিল বকুলের পক্ষে। বাচ্চাগুলো জন্মানোর পরই বকুলের মরদটা কোথায় যে হারিয়ে গেল! গান্ধারী তখন পাশে দাঁড়িয়েছিল বকুলের মুশকিল আসান হয়ে। গলা পর্যন্ত জলে ডুবে সাপখোপের ছোবল থেকে আগলে রাখত বকুলের বাচ্চাগুলোকে। সারাদিনের রসদ জোগাড় করে বাচ্চাগুলোর মুখে তুলে দেওয়ার জন্য হাঁপাতে হাঁপাতে যখন ছুটে আসত বকুল, দেখত সবচেয়ে ছোট বাচ্চা টা ভয়ে কুঁকড়ে শুয়ে আছে গান্ধারীর দু'হাতের ফাঁকে। ধীরে ধীরে গান্ধারীর ঘর আলো করে এলো ছেলেপুলে গুলো। বাচ্চা গুলোকে নিয়ে সেদিন রোদে খেলছিল ওদের বাবা। হঠাৎ এক বড়লোকের ছেলে গাড়ি চালানো শিখতে শিখতে আস্ত গাড়িটাই তুলে দিল ওদের বাবার ঘাড়ে। দু হাত আকাশের দিকে তুলে, রক্তে ভেসে যাওয়া শরীরটা ছটফট করতে করতে নিথর হয়ে গেল। হৈ হৈ করে ছুটে এল গান্ধারী, বকুল, বাসন্তী, ছেদিলাল সবাই। কিন্তু জংলীদের জীবনের মূল্য বোঝাতে পারল না গাড়ি চালানো শিখতে আসা নবাবের বেটা কে। গান্ধারীর আস্তানার দিকে তাকিয়ে সে কথা মনে পড়ে গেল বকুলের। আহা সেদিন গান্ধারীর দু:খ ভোলানোর জন্য কতরকম গান শুনিয়েছিল বাসন্তী। ঘুমপাড়ানি গান, মন ভালো করার গান, কান্না থামানোর গান আরও কত কি! আজ বাসন্তীর বসার জায়গাটাও পরিষ্কার করে দিল পরিষ্কারওয়ালারা। বাসন্তী জানতেও পারল না। কয়েকদিন পরে ছেদিলালের ওই বিশ্রী ঘরটাতে নিজের বাচ্চা গুলোকে চালান করার জন্য যখন বাসন্তী আসবে, খুব কষ্ট পাবে বেচারা। রায়া হয়তো তখনো বারান্দায় এসে দাঁড়াবে বাসন্তীর গান শোনার জন্য, কিন্তু মিষ্টি রোদের আড়ালে বসে গান গাওয়ার সুখটাই আর পাবে না বাসন্তী। রায়ারও আর গান শোনা হবে না। ছেদিলাল মনে মনে ভাবে যাক বাবা আমার গায়ে পরিষ্কারওয়ালারা কোন আঁচড় কাটতে পারেনি। ছেদিলালের এই অসাড় সন্তুষ্টি দেখে রায়ার ভারি অদ্ভুত লাগে। জংলীরা এত পরশ্রীকাতর হয় নাকি! ওতো সভ্যলোকের স্বভাব।
এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেল আচমকা। গান্ধারীর আস্তানার চারপাশটা বৃষ্টির ঝাপটায় কেমন এলোমেলো হয়ে গেল। যেন এক ঝটকায় মুছে দিয়ে গেল গান্ধারীর গোটা পরিবারটার অস্তিত্ব। ঝুপ করে অন্ধকার নামতেই একে একে ঘর ছেড়ে বেরোতে লাগল জুগনুর বন্ধুবান্ধবরা। প্রত্যেকের হাতে টিম টিম করে জ্বলছে লন্ঠন। একজন দুজন করে দলটা যখন বেশ ভারী হয়েছে, আকাশমুখো জুগনু চিৎকার করে বলে উঠল - ওরে তোরা আর উঠিস না, বিশ্রাম নেওয়ার আর কোন জায়গা নেই। চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে বসে লন্ঠন গুলো উসকে দিত ওরা। মিশকালো রাত্রিটা ওদের লন্ঠনের আলোয় কেমন স্বপ্নময় হয়ে উঠত। আর সেই আলোর রোশনাই দেখে সুরবাহার বেঁধে নিত পান্নাবাঈ আর তার মজলিশী সঙ্গীসাথীরা। নিখুঁত সুরের মূর্চ্ছণায় কানায় কানায় ভরে উঠত জংলী দুনিয়াটা। গোধুলির আলোর ছোঁয়ায় অপরূপা হয়ে ওঠা নববধু, প্রাণের পরশ পেত পান্নাবাঈ এর ইমনের আলাপে। মরমীয়ার উষ্ণ আলিঙ্গন বাঙ্ময় হয়ে উঠত দরবারীর তানে বিস্তারে। জুগনুদের লন্ঠনের আলো যখন ভোরের আকাশকে কুর্নিশ জানিয়ে নিভে যেত, সুখনিদ্রা শেষে যখন চোখ মেলত মরাল-মরালী, পূবালী বাতাসে তখন ছড়িয়ে যেত পান্নাবাঈ এর ভৈরবীর বন্দিশ। সমস্ত দৃশ্যটা যেন চোখের সামনে ভেসে উঠল রায়ার। পরিষ্কারওয়ালাদের বেলচা কোদালের ঝনঝনানি, কবর দিয়ে দিয়েছে সেই দৃশ্যপটের। ফতোয়া জারি করেছে বকুল, জুগনু, পান্নাবাঈদের। সমস্ত কিছু উপড়ে ফেলে পরিষ্কার করা এই নন্দনকাননে জংলীদের প্রবেশ নিষেধ।
কত না ঘুমোন রাত্রি রায়া কাটিয়েছে এই জুগনুর দলের লন্ঠন নৃত্য দেখে আর পান্নাবাঈ এর রাগরাগিণীর মজলিশ শুনে। রোজ সকালে গান্ধারী যখন তার ছেলেমেয়েদের সাথে নিয়ে হেঁটে যেত পিচ রাস্তার উপর দিয়ে, কি যে সুন্দর দেখতে লাগত! রায়া প্রাণ ভরে অনুভব করত গান্ধারীর মাতৃত্বের সৌরভ। বকুলের বাচ্চাগুলো রায়ার চোখের সামনে একটু একটু করে বেড়ে উঠল। সন্তান লালনের প্রতিটা ধাপের কঠিন চ্যালেঞ্জ একটু একটু করে কাটিয়ে উঠল বকুল, একেবারে একা। রায়াকে পড়িয়ে দিয়ে গেল জংলী লড়াইয়ের কঠিন পাঠ।
জংলী এই পরিবেশটাকে সাফসুতরো করার জন্য দরবার করেছে সবাই। উঠেপড়ে লেগেছে সমস্ত আগাছা উপড়ে ফেলার জন্য। উন্নয়নের কাণ্ডারি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে পরিষ্কারওয়ালারা। কেউ ভেবে দেখেনি গান্ধারী, বকুল, বাসন্তী, জুগনু, পান্নাবাঈদের কথা। রায়া অনেকবার বলার চেষ্টা করেছে - থাকনা সবাই যে যেমন আছে! কিন্তু উন্নয়নের বিউগলের আওয়াজের আড়ালে রায়ার মৃদু প্রতিবাদ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি।
পরিষ্কারওয়ালারা সদর্পে পরিষ্কার করে দিয়ে গেছে রায়ার বারান্দার সামনের আগাছায় ভর্তি জলা জঙ্গলটা। রায়া হারিয়ে ফেলেছে তার সেই জংলী বন্ধুদের, যাদের সাথে সে সারারাত সুখ দু:খের গল্প করত। রায়ার খারাপ মন ভাল করার জন্য কত কেরামতিই দেখাত তার জংলী বন্ধুরা।
আজ আর কে জেগে থাকবে বিনিদ্র রায়ার সাথে রাতের পর রাত! রায়ার চোখের অন্ধকার কাটাতে আর তো আসবেনা জুগনুর দল। ক্লান্তিতে ভেঙে পড়া শরীরটা আর তো চনমনে হয়ে উঠবে না পান্নাবাঈ এর গানের আমেজে! ভাবতে ভাবতে দুচোখ ভিজে যায় রায়ার। বাসন্তীর দু:খহরণ সঙ্গীতের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে রায়ার মনটা। কেমন আছে গান্ধারী! ওর ছোট বাচ্ছাগুলো! আদৌ কি আর কোন আস্তানার খোঁজ পেল তারা!
শীতের সকালের আমেজ চেটেপুটে নিতে নীচে নেমেছে রায়া। কেমন যেন খাঁ খাঁ করছে সামনের জায়গাটা। উপড়ে যাওয়া গাছ, ছেঁটে ফেলা ডালের স্তুপ, জড়ো করে রাখা শুকনো ঘাস, হেলে পড়া কচু গাছগুলো, সবটা মিলে যেন যুদ্ধের ধারাবিবরণী। রায়ার বিনিদ্র রাতগুলোর সাক্ষীরা এই অসম যুদ্ধের পরাজিত সৈনিক। রায়া হঠাৎ দেখল জড়ো করা ঘাসের স্তুপের মধ্যে কি যেন নড়াচড়া করছে। কিছুক্ষণ পর মাথায় এক দলা শুকনো ঘাস মুকুটের মত পরে বেরিয়ে এলেন রাজমহিষী গান্ধারী। হয়তো বা ফেলে যাওয়া সংসারে কিছু কেজো জিনিসের সন্ধানে এসেছেন তিনি। রায়াকে দেখে দুহাত তুলে শরীরটাকে সোজা করে দাঁড়াল গান্ধারী। কালো ভ্রমরের মত চোখ গুলো দিয়ে কত কিছুই না বলতে চাইল সে। তার চোখের সব করুণ ভাষা পড়তে পারে না রায়া। দুপায়ে ভর দিয়ে সোজা দাঁড়িয়ে থাকা গান্ধারী কে দেখে রায়ার একটাই কথা মনে হয় এ গান্ধারী আপোষ করেনা বুক চিতিয়ে লড়তে জানে।
রূপকধর্মী গল্প। অসাধারণ। তথাকথিত উন্নয়নের জোয়ারে ছিন্নমূল প্রজাতির বাস্তুহারা হবার যন্ত্রণার নেতিবাচক উপসংহার এর শেষ কথা নয়।ফিনিক্স পাখির মতো আগ্নেয় ধ্বংসস্তূপ থেকে তার পুনরুত্থান ও নতুন জীবন গড়ার স্বপ্নই এর মূল সুর। অসামান্য পর্যবেক্ষণ। অভিনন্দন লেখককে।আরও এরকম সৃষ্টিতে সমৃদ্ধ করুন পাঠককে।
ReplyDeleteযাদের ছাড়া পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে যাবে, যাদের বার্তা করো কাছে পৌঁছানো যাবে না, এই প্রতিনিয়ত উন্নয়নের অন্তরালে ভাঙার খেলা খুব সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে
ReplyDeleteGaaye kaNta diye uthlo...
ReplyDeleteEtai to bastob!!!
Osadharon...
onekdin por notun lekha, tao emon aagun jhora lekha...durdanto!!
Shampa
রায়া দের কফির ধোঁয়া গান্ধারী দের চোখের বাস্প। যুগে যুগে রায়া দের কারণেই গান্ধারী দের উচ্ছেদ হতে হয়।ব্যালকনি তে রায়া দের হাতে যখন কফি কাপ,তখন গান্ধারী দের হাতে ভাঙা সংসার।
ReplyDeleteরায়াদেরই বুঝতে হবে বারবার গান্ধারী দের উচ্ছেদ হতে হয় কেন।
আপনার অনভবি লেখা দৈনন্দিন জীবনে খোঁচা দিয়ে গেল। কলম চলুক।
আমি অলক দে,আগামী লেখার অপেক্ষায় থাকলাম।
আমাদের বাস্তু তান্ত্রে গান্ধারী, বাসন্তী, বকুল, জুগ্নু সবার বেঁচে থাকার অধিকার আছে এবং তা আবশ্যিক। উন্নয়নের নামে পরিবেশের ভারসাম্য নস্ট করা অনুচিত। রায়া র মত গান্ধারী দের প্রতি সমব্যথী আমাদের সমাজে আছেন, কিন্তু তাদের অনেক লড়াই করে গান্ধারী দের রক্ষা করতে হয়। লেখার মধ্যে গান্ধারী র টিকে থাকার লড়াই মন কে নাড়া দিয়ে যায়। অনেকদিন পর অসাধারণ এক ভিন্ন ধর্মী লেখা পড়ার সুযোগ হলো, অনেক ধন্যবাদ।
ReplyDeleteখুব মন খারাপ করা গল্প। কিন্তু এটাই বাস্তব। উন্নয়ন যেমন এমন গান্ধারী দের সব কিছু কেড়ে নেয় তেমন আবার রায়ার মতন কিছু সহমর্মী মানুষ আবার হাত বাড়িয়ে দেয় ভালবাসার।
ReplyDeleteকিছু তিক্ত যুক্তিপুর্ণ সত্য।
ReplyDelete**********************
আজকাল প্রায়ই শুনতে পাই, আমাদের জীবন থেকে কি কি হারিয়ে গেছে। যেমন বিভিন্ন প্রজাতির প্রানী, অনেক রকমের সামাজিক প্রথা, অলস সময়, লোকেদের মধ্যে যোগাযোগ.... ইত্যাদি ইত্যাদি।
প্রায়ই শুনতে পাই আমাদের সময় অনেক ভাল ছিল,এইটা ছিল, ওইটা ছিল... এখন আর নেই সব বদলে গেছে, আগে ভাল ছিল, এখন খারাপ হয়ে গেছে।
একবার ভেবে দেখুন যে পরিবর্তনএর অপর নাম সময়।
প্রথমে ভাবুন, প্রানী সৃষ্টির সময় থেকে কটা প্রজাতি টিঁকে আছে, বা আদৌ কোন প্রজাতি প্রথম থেকে টিকে আছে কি? উত্তর অবশই না, কোন প্রজাতি একই ভাবে টিঁকে নেই।
একই ভাবে কোন ব্যাবস্থা, মুল্যবোধ বা অভ্যাস কোনটাই স্থির নয়, সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল।
এখন প্রস্ন হচ্ছে, পরিবর্তন ভালর দিকে নাকি মন্দর দিকে?
তাহলে আগে দেখতে হবে ভাল কি? ঠিক কাজ কোনটা?
এই ভাল বা ঠিক এর ডেফিনেশন কি?
শুনেছি স্বামীজি নাকি কাউকে বলেছিলেন যা করলে মানবজাতির/জীবের ক্ষতি হবেনা, তারা টিঁকে থাকবে সেটাই ঠিক।
কিন্তু সবাই টিঁকে থাকবে, ভাল থাকবে এ কি সম্ভব? তাহলে তো খাদ্যখাদক সন্মন্ধ ভেঙে যাবে। প্রকৃতিক ভারসাম্য বলে কিছু থকবেনা।
ডারউইন এর কথায়, সেই থাকবে যে মানিয়ে নিতে পারবে, মানে যে সয় সে রয়।
মোদ্দা কথা কোনকিছুই স্থির নয়, সব কিছুই পরিবর্তনশীল। আজ কোন কারনে একটা জীব নিশ্চিহ্ন হলে সেটা নতুন কিছু নয়, কেউ বলবে মানুষের লোভের ফলে এটা ঘটলে সেটা স্বাভাবিক নয়। আর তাই অনুচিত, কিন্তু মানুষ নামের প্রানিটির লোভ, অদুরদর্শিতা, যা এই সভ্যতাকে বিনাশের পথে নিয়ে চলেছে তাওতো প্রকৃতির সৃষ্টি। আবার কিছু মানুষের শুভবুদ্ধি, তাও। তাই এই সবই চলতে থাকবে
.... এস ভাই,তোল হাই,সুয়ে পড় চিৎ,
অনিশ্চিত এ সংসারে একথা নিশ্চিত,
স্বপ্ন সুধু সত্য আর সত্য কিছু নয়....
Golpoti te je shamajik shomoshya ti prosfutito hoyeche ta nitantoi adhunik jiboner shomoshya, udbastu manushsher jontrona.tar shonge prokretir je nikhut bornona pai, ta jeno lekhok Bibhutibhushan ke mone poriye dyae, jontrokator manush ar shohomormi prokreti milemishe ekta odbhut abeger srishti koreche, er modhyei lukiye ache golpotir shoundorjyo o sharthokota.
ReplyDeleteমানুষের চাহিদার কোন শেষ নেই। নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এমন কোন কাজ নেই যা মানুষ করতে
ReplyDeleteপারে না। ফিরেও দেখেনা কতো ক্ষতি করে চলেছে প্রতিনিয়ত। লেখাটিতে এই নির্মম সত্যটি তুলে ধরা হয়েছে অসাধরণভাবে । পড়তে পড়তে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। মানুষ সচেতন হয়ে উঠুক এমন হৃদয়স্পর্শী লেখার মাধ্যমে। নিজেও বাঁচুক, অপরকেও বাঁচতে দিক।
মহুয়া
Opurbo lekha. Ekdom bhasahin hoyee gelam.
ReplyDeleteসেই প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকে সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে উন্নয়নের রথের চাকার তলায় কত প্রাকৃত ও যাযাবর মানুষের দল এভাবে হয়েছেন বাস্তুহারা! ধীরেধীরে তাঁরা গিয়েছেন হারিয়ে। বিবর্তনের মূল কথা "যোগ্যতমের উদ্বর্তন" কি তবে এই? এখানে মানবতার স্থান কোথায়? অসামান্য এই লেখাটি পড়ার পর ভারাক্রান্ত মনে এই প্রশ্নটিই কেবল জেগে উঠছে।
ReplyDeleteAsadharan, sukh-dukkho, Kanna-hashi ei jatiyo biparitdhormi gun gulo pranobanto kore tole ki prakriti ki purush(jibatma)ke...
ReplyDeleteদারুন লেখা। বেশ একটা underlying angst আছে। অন্যরকম লেখা। গান্ধারী নাম ও খুব significant।
ReplyDeleteMon ta khub kharap hoye jaay..asamay laage. Er naam 'unnayan' !!! Sab stores e je unnayan pochhay na !!! Etai boddhot mormantik satyo..
ReplyDeleteThis comment has been removed by a blog administrator.
ReplyDeleteপড়তে পড়তে মনটা খারাপ হয়ে যায় কিন্তু এটাই কঠিন বাস্তব। সচেতন করার জন্য অত্যন্ত সুন্দর একটি লেখ।
ReplyDelete