আজ সকাল থেকে আকাশটা কেমন মনমরা। একপশলা ভোরের বৃষ্টিতে ভিজে গাছগুলোর ঘুম বোধহয় একটু তাড়াতাড়িই ভেঙ্গে গেছে। রাস্তার ধারের লাল রঙ্গন ফুলের গাছটা ফুলের ভারেই বুঝি মূর্ছা যাচ্ছে। সকালে হাঁটতে আসা মানুষের দলগুলো আজ অনেকটাই হালকা। ম্যাজম্যাজে দিনটা আজ বোধহয় একটু দেরী করেই শুরু হবে। সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি উড়িয়ে যে চায়ের দোকানগুলো রোজ এ সময় ভিড়ে উপচে পড়ে আজ সেখানেও যেন একটু অন্য ছবি। রাস্তার ঠিক মাঝখানে বিশাল এক যন্ত্র তিনদিন ধরে অবিরাম গর্ত খুঁড়ে চলেছে। নাগরিক পরিষেবা। দুপাশের বাড়ির লোকগুলোর প্রাণান্তকর অবস্থা।
হনহন করে হেঁটে পেরিয়ে যাচ্ছিলাম আমার আগের মহিলাকে। উনি আমায় জিজ্ঞাসা করলেন - দিদি ঠাকুমা কি জিজ্ঞাসা করছিল? আমি সবটাই বললাম। বলল - রোজ সবাইকে জিজ্ঞাসা করে জানেন তো! আমরা আজকাল আর উত্তর দিই না। আপনি উত্তর দিলেন তো আপনাকে রোজ জিজ্ঞাসা করবে। মনে মনে ভাবলাম কি বাহাদুরী করেন উত্তর না দিয়ে। ভদ্রমহিলা বলে চলেছেন। আমার হাঁটার গতিও থেমে গেছে। আসলে ঠাকুমার একটাই ছেলে জানেন তো। সবজির লরি চালায়। শুক্রবার করে এসে মা'কে সারা সপ্তাহের খরচ দিয়ে যায়। দিনকুড়ি আগে এক্সিডেন্টে ছেলাটা মরে গেছে। ঠাকুমা জানে না।
আমার পা দুটো আর চলছেই না। অনেকটা এগিয়ে এসেছি, ছেলের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা মা'কে আর দেখতে পাচ্ছিনা। গলাটা যেন বুঁজে আসছে। হা ঈশ্বর এ কেমন বিচার! সেদিন এক বন্ধুর লেখা গল্প 'এক্সচেঞ্জ অফার' পড়ছিলাম। সমস্ত পুরোন অচল জিনিস বদলে ঝাঁ চকচকে জিনিসে ঘর ভরিয়ে দিতে পারেন কোম্পানীর সাহেব মালিক। বাড়ির অশীতিপর বাতিল হয়ে যাওয়া দাদুকেও তিনি বদলে দিতে চান। এমন কোন গঞ্জালভেস কি পারেনা অনন্ত অপেক্ষার বদলে এই মাকে ঝাঁ চকচকে সুন্দর একটা ভবিষ্যৎ দিয়ে যেতে? যাতে উনি আর যে কটা দিন বাঁচবেন ওই ফোকলা দাঁতের হাসিটা নিয়ে বাঁচতে পারেন? কিন্তু না। পৃথিবীতে শুধুমাত্র মা আর সন্তানের সম্পর্কটাই যে শাশ্বত। তার যে কোন অদলবদল হয় না।


হাহাকার কবে থামবে?
ReplyDeleteসন্তানের জন্য মাতৃহৃদয়ের চিরন্তন ব্যাকুল অপেক্ষার কথা পড়ে মন ব্যথায় ভরে গেল। সত্যিই এই সম্পর্কের কোনও অদলবদল হয়না।
ReplyDeleteDin tar moton lekhatao mon kemon kora....ar kichhui bolte parlam na...mon ta bhaari hoye elo..
ReplyDeleteLekhatar aprotyashito obhighat bakruddho kore dey....bidhatar ki nisthur porihas...
ReplyDelete